ডিপ ওয়ার্ক vs শ্যালো ওয়ার্ক

ডিপ ওয়ার্ক vs শ্যালো ওয়ার্ক। আজ আমরা ডিপ ওয়ার্ক এবং শ্যালো ওয়ার্ক এর সুবিধা ও অসুবিধা প্রয়োজনীয়তা সহ বিস্তর আলোচনা করব। ডিপ ওয়ার্ক এমন একটা স্কিল যেটা আপনাকে স্টুডেন্ট লাইফে ফার্স্ট হতে সাহায্য করবে, ফ্রিল্যান্সিং এ নতুন নতুন ক্লাইন্ট এনে দিবে। এবং ছয় মাসে আপনাকে পরিবর্তন করে ফেলবে। স্কিলটার ওপর বাংলাদেশে তেমন কোন কোর্স নেই। কাজ সাধারণত দুই রকমের হয়। ডিপ ওয়ার্ক এবং শ্যালো ওয়ার্ক।

 

ডিপ ওয়ার্ক vs শ্যালো ওয়ার্ক

ডিপ ওয়ার্ক হল এমন একটি কর্মধারা যাতে আপনি আপনার মনোবৃত্তি, ধারণা, এবং ক্যাপ্যাসিটির সীমা অতিক্রম করে নতুন এবং জোরদার সমস্যাগুলি সমাধান করতে পারেন। আমরা সাধারণত প্রতিদিন ৪-৫ ঘন্টার বেশি ডিপ ওয়ার্ক করতে পারি না। ডিপ ওয়ার্ক  কিন্তু কোন নতুন কনসেপ্ট না। সেই ১৬০০ শতাব্দীতে নিউটন যখন আবিষ্কার করেন গ্রাভিটি, তখনও কিন্তু ডিপ ওয়ার্ক করেন। আপনার যদি মহৎ কিছু করতে হয়, নিজের ভেতরে যদি চেঞ্জ আনতে হয়, তাহলে আপনার অবশ্যই দরকার ডিপ ওয়ার্ক।

# এক কথায় ডিপ ওয়ার্ক বা গভীরতাপূর্ণ কাজ:

“অন্য কোনও দিকে কোনওরকম মনোযোগ দেয়া ছাড়া পূর্ণ মনোযোগে এক সময়ে একটি মাত্র কাজ করা। এভাবে কাজ করাটা আপনার মানসিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে। এতে প্রায়ই নতুন কিছু সৃষ্টি হয় যা মানুষের কাজে লাগে। সেই সাথে এই ধরনের কাজে আপনার দক্ষতা বাড়বে, এবং এটা রপ্ত করা আসলেই কঠিন”।

 গভীরতাপূর্ণ কাজ কেন দুর্লভ হয়ে পড়ছে?

প্রথম কথা, ভোঁতা কাজ বা Shallow Work বেশ সহজ। সেইসাথে আপাতদৃষ্টিতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই ভোঁতা কাজকে উ‌ৎসাহিত করে ভেবে দেখুন: সব সময়ে কর্মীদের ওপর নজরদারী করা, দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তাড়া দেওয়া, বা ওপেন অফিস প্ল্যান (আলাদা আলাদা রুমের বদলে একটি বড় স্পেস নিয়ে খোলা জায়গায় ডেস্ক বসানো, এবং সবাইকে একসাথে কাজ করতে দেয়া, এই পদ্ধতিতে কর্মীরা সার্বক্ষণিক নজরদারীতে থাকে)। এইসব পদ্ধতিতে যেসব প্রতিষ্ঠান চলে, সেগুলোর কর্মীরা ভালোভাবে কাজ করার বদলে, যেভাবেই হোক কাজ শেষ করে দিতে চেষ্টা করে, সেই সাথে সব সময়ে নিজেকে ব্যস্ত দেখাতে চায়। কাজের জন্য কাজ না করে এরা ‘দেখানোর জন্য’ কাজ করে থাকে। আর বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলো এমন পদ্ধতিতেই বেশি চলে।

Distraction এর উদ্ধে গিয়ে আপনাকে ডিপ ওয়ার্ক করতে হবে।

আপনি যদি মনোযোগ সহকারে প্রতিদিন ৩-৪ ঘন্টা ডিপ ওয়ার্ক করতে পারেন, তাহলে আপনার দিনে অঢেল সময় থাকবে আড্ডা দেওয়ার, অন্যান্য টুকিটাকি কাজ করার।

ডিজিটালি কিভাবে ডিপ ওয়ার্ক করা যায়

১। স্পেসিফিক জায়গা নির্ধারণ করুন। 

আপনি যদি ঘুমানোর বেডে পড়াশোনা করেন তাহলে আপনার ব্রেন কনফিউস হতে পারে এখন কি পড়াশোনা করার সময় নাকি ঘুমানোর সময়।

পড়াশোনা, ঘুম, এবং খেলাধুলার জন্য ভিন্ন ভিন্ন নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করুন।

২। মাইন্ড ম্যাপিং

মাইন্ড ম্যাপিং এর জন্য স্টিকি নোটস ব্যবহার করতে পারেন।

৩। টেক বেবি স্টেপস

একদিনেই আপনি এভারেজ জয় করতে পারবেন না আপনাকে আস্তে আস্তে প্রিপারেশন নিয়ে আগাতে হবে। আস্তে আস্তে এগোলে হয়তো আপনি আপনার End Goal এ যেতে পারবেন।

একবারে আপনি সবকিছু করে ফেলবেন এই চিন্তা বাদ দিয়ে ছোট ছোট স্টেপে এগোতে থাকুন।

১০, ২০, ৩০ এভাবে ছোট ছোট স্টেপে এগোতে থাকলে অবশ্যই আপনি সাকসেস হবেন।

শ্যালো ওয়ার্ক (Shallow Work) হল ডিপ ওয়ার্কের বিপরীত। এটি বিশেষভাবে প্রযুক্তি, সাংবাদিকতা, ব্যবসায়িক সৃজনশীলতা বা সার্বজনীন কাজের ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হতে পারে। এটি সাধারণভাবে চলমান কাজ, মেইলের উত্তর, মিটিং, সাম্প্রতিক সমস্যা সমাধান ইত্যাদি কাজে প্রযোজ্য থাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *